সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের : ১৭ নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

admin
admin
Highlights
  • শীর্ষ আদালতের রক্ষাকবচ, তবে ১৩ দিনে দেশে ফেরার কড়া নির্দেশ বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলকে!
  • সুপ্রিম কোর্টে সাময়িক স্বস্তি বীরভূমের টুলু মণ্ডলের : ১৭ নভেম্বরের মধ্যে দুবাই থেকে ফেরার ফরমান!
  • ‘টুলু মণ্ডল তো দাউদ ইব্রাহিম নন’ — আইনজীবীর সওয়ালের পর বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ীকে শর্তসাপেক্ষ আইনি সুরক্ষা সুপ্রিম কোর্টের।
  • রাজস্ব ফাঁকি ও ভুয়ো রসিদ মামলার মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডলকে রক্ষাকবচ দিল শীর্ষ আদালত, বেঁধে দেওয়া হলো দেশে ফেরার সময়সীমা।

বীরভূমের কয়লা ও পাথর শিল্প মহলে অত্যন্ত পরিচিত নাম টুলু মণ্ডল অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর, বুধবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। তবে এই আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের শীর্ষ আদালত তাঁর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে।

মামলার বিবরণ এবং আদালতের নির্দেশাবলী নিচে পয়েন্ট আকারে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:

সুপ্রিম কোর্টের মূল নির্দেশ ও সময়সীমা

  • দেশে ফেরার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ: দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ১৭ নভেম্বরের (১৩ দিন) মধ্যে টুলু মণ্ডলকে অবশ্যই ভারতে ফিরে আসতে হবে।
  • আইনি রক্ষাকবচ: আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও রকম দমনমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ (যেমন গ্রেফতারি) করতে পারবে না।
  • তিন সপ্তাহের সুরক্ষা: সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় রাজ্যের তরফে জানানো হয়, অভিযুক্ত দেশে ফিরলে পরবর্তী তিন সপ্তাহ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করবে না, তবে তদন্তের কাজ নিয়মমাফিক চলতে থাকবে।

টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা মূল অভিযোগসমূহ

  • রাজস্ব তছরুপের মামলা: বীরভূমের এই নামী পাথর ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বড়সড় অভিযোগ রয়েছে।
  • ভুয়ো রসিদ চক্র: ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট (ডিসিআর) বা ভুয়ো রসিদ তৈরি করে সরকারি তহবিল তছরুপের একটি চক্র চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
  • তদন্ত ও চার্জশিট: এই জালিয়াতি মামলার তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশ ইতিপূর্বেই সিউড়ি আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে, যেখানে টুলু মণ্ডলকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ: তৃণমূল জমানায় পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে টুলু মণ্ডলের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায় এবং তিনি একাধিক বড় সরকারি প্রকল্পের বরাত পেতেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

দুবাই যোগ এবং পলাতক থাকার পর্ব

  • পলাতক ঘোষণা: ভুয়ো রসিদ ও রাজস্ব ফাঁকির এই চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুলিশি গ্রেফতারি এড়াতে গা ঢাকা দেন টুলু।
  • বিদেশি ঠিকানা: তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান এবং সূত্র অনুযায়ী, ভারতের বাইরে গিয়ে দুবাইয়ে নিজের বর্তমান আস্তানা বানিয়েছিলেন এই ব্যবসায়ী।

আদালতে আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব ও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র সওয়াল-জবাব চলে।

  • টুলু মণ্ডলের আইনজীবীর যুক্তি: আদালতে টুলুর পক্ষে সওয়াল করেন দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী মুকুল রোহতগি। তাঁর দাবি ছিল, এই পুরো মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর মক্কেলকে সঠিক নিরাপত্তা দিলে তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন। আদালতে তিনি মন্তব্য করেন:

আমার মক্কেল কোনও দাউদ ইব্রাহিম নন। তিনি দুবাইয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে ও আইনি পথ মেনেই নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

  • রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য: রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। তবে তিনি আদালতের কাছে একটি বিশেষ অনুরোধও রাখেন:

অভিযুক্ত দেশে ফেরার পর যাতে মামলার কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে না পারেন এবং মামলার তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা না করেন, আদালতকে সেই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিতে হবে।

আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেবে এই মামলা ?

সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের পর বীরভূমের এই ‘পাথরসম্রাট’-এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। ১৭ নভেম্বরের মধ্যে তিনি দেশে ফিরে পুলিশের মুখোমুখি হন কি না এবং আগামী ৭ ডিসেম্বরের পর আদালত তাঁর এই রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার। আপাতত সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে এক নতুন মোড় এল তা বলাই বাহুল্য।

Share This Article
Leave a Comment